রাতারাতি ফর্সা হওয়ার উপায়

ফর্সা সবাই হতে চায়। কিন্তু কি প্রক্রিয়ায় তাড়াতাড়ি ফর্সা হওয়া যায় সেই বিষয়ে অনেকের এই কোনো ধারণা নেই। আজকের এই পোস্টে আমরা বিস্তারিত সবই তুলে ধরবো কি করে রাতারাতি ফর্সা হওয়া যায়।

রাতারাতি ফর্সা হওয়ার উপায়

উজ্জ্বল ফর্সা ত্বকের প্রতি দুর্বলতা রয়েছে সবারই। একজন মানুষের স্ব-যোগ্যতার মধ্যে তার গায়ের রংটিও বিবেচ্য! এতে করে শ্যামলা বা কালো বর্ণের মানুষেরা হীনমন্যতায় ভোগেন এবং মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়েন। আর এসব কথা থেকে বাঁচতেই রাতারাতি গায়ের রং ফর্সা করতে বেছে নেন বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক মিশ্রিত ক্রিম। 

তবে বাজার চলতি ক্রিম যতোটা না কাজ করে তার চেয়ে বেশি ত্বকের ক্ষতি করে। এসব ক্ষতিকারক ক্রিমের উপর ভরসা না করে প্রাকৃতিক উপায়েই এর সমাধান করুন। জেনে নিন প্রাকৃতিক উপাদানে রাতারাতি ফর্সা হওয়ার উপায়ঃ 

হলুদ

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হলুদের একটি ফেইস প্যাক লাগাতে পারেন। ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়ার সঙ্গে সমপরিমাণ ওটমিল, মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। 

পাকা পেঁপে 

পাকা পেঁপে ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে মাখলে তা প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বককে ব্লিচ করে। এতে মুখের দাগছোপ দূর হবে, ত্বকের রং উজ্জ্বলও হবে।

আমন্ড বা কাঠবাদাম

আমন্ডের পেস্ট দুধে মিশিয়ে নয়া মিশ্রণ তৈরি করে ত্বকে লাগান। দশ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন।

ডাবের পানি

ডাবের পানি ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। ত্বকের জেল্লা ফেরাতে, কালো ছোপ দূর করতে এর জুড়ি নেই। 

টক দই 

ত্বকের রং ফর্সা করতে টক দই ও লেবুর রসের মিশ্রণ তৈরি করে ব্যবহার করুন। এটি দারুণ কাজ দেয়।

চন্দনের গুঁড়া 

চন্দন কাঠের গুঁড়া ত্বককে রাতারাতি ফর্সা করতে খুবই কার্যকরী। এই গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

ফর্সা ত্বক পেতে চাইলে ব্যবহার করুন ঘরে তৈরি ফেসপ্যাক

ফেসপ্যাক তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদানঃ

  • ১ টি আলু
  • ৩০ গ্রাম পাকা মিষ্টি কুমড়া
  • কাঁচা তরল দুধ (Milk)
  • মধু

স্কিন ফেয়ারনেস ফেইসপ্যাক টি তৈরি করার নিয়মঃ

  • এই মাস্কটি বানানোর জন্য ১ টি আলু ও ৩০ গ্রাম পাকা মিষ্টি কুমড়া সেদ্ধ করে নিতে হবে ।
  • আলু ও মিষ্টি কুমড়া সেদ্ধ করে এটাকে ঠান্ডা করে নিতে হবে।
  • আলু ও মিষ্টি কুমড়া (Sweet pumpkin) ঠান্ডা হবার পর এদেরকে ব্লেন্ড করে এটিকে একটি কাঁচের কৌটায় নিয়ে স্টোর করে রাখুন। এই মিশ্রণটিকে ফ্রিজে রেখে ৭ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।
  • এবার একটি পরিস্কার বাটিতে ৩-৪ চামচ এই মিশ্রণ নিন।
  • এর সাথে এড করুণ ১ চামচ কাঁচা তরল দুধ ও ১ চামচ মধু (Honey)।
  • এরপর এদেরকে ভাল করে মিশিয়ে নিন।

প্যাক টি ব্যবহার করার নিয়মাবলীঃ

  • এই ফেইসপ্যাকটি তৈরি হয়ে গেলে একটি ব্রাশের সাহায্যে চেহারায় ভালভাবে লাগিয়ে নিন।
  • যদি আপনাদের কাছে ব্রাশ না থাকে সে ক্ষেত্রে হাত ভালো করে পরিষ্কার করে হাত দিয়েও লাগিয়ে নিতে পারেন।
  • ফেসপ্যাকটি মুখে লাগানোর পর 5 থেকে 10 মিনিট অপেক্ষা করতে হবে যাতে ফেসপ্যাকটি শুকিয়ে যায়।
  • যখন ফেসপ্যাকটি শুকিয়ে যাবে তখন ঠান্ডা পানি দিয়ে আপনার মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে ।

স্থায়ী ফর্সা হওয়ার উপায়

নিজের সৌন্দর্য বাড়ানোর চেষ্টা নারীদের যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। সৌন্দর্য সচেতন যারা তারা নিজেকে অন্যের কাছে আরো বেশি আকর্ষণীয় করে তোলার কোনো চেষ্টাই ত্রুটি রাখেন না। বর্তমানে নানা ব্যস্ততার জন্য মানুষ নিজের যত্ন নেয়ারই সময় পায় না। যদিও অনেকেরই কাম্য ফর্সা সুন্দর ত্বকের। তবে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, শারীরিক অসুস্থতা, দীর্ঘসময় রান্নাঘরে কাজ করা ইত্যাদি নানান কারণে ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। হয়ে যায় কালচে ও বিবর্ণ। অনেকেই ফর্সা হওয়ার আশায় বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করেন। তবে তা স্থায়ীভাবে ফর্সা ত্বক দেয় না।

তাইতো প্রাকৃতিক উপায়ে এবং ঘরোয়াভাবে গায়ের রঙ ফর্সা করার রয়েছে সহজ উপায়। শুধু তাই নয়, এই ফর্সা রঙটা হবে স্থায়ী। কারণ সৌন্দর্য সেটাই, যা ভেতর থেকে আসে। চলুন জেনে নেয়া যাক প্রাকৃতিকভাবে রঙ ফর্সা করার দুটি পদ্ধতিঃ

দুধ ও কাঁচা হলুদ

রূপচর্চায় দুধ ও কাঁচা হলুদের ব্যবহার যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে। প্রতিদিন এক গ্লাস উষ্ণ গরম দুধে আধা চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে পান করুন। চাইলে এর সঙ্গে মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন। নিয়মিত হলুদ মেশানো দুধ পান করলে আপনার রঙ হয়ে উঠবে ভেতর থেকে ফর্সা।

দুধে কাঁচা হলুদ বাটা না মিশিয়েও আরেকটি কাজ করতে পারেন। দেড় ইঞ্চি সাইজের এক টুকরো হলুদ নিন। তারপর টুকরো করে কেটে এক গ্লাস দুধে দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। দুধ গাঢ় হলুদ রঙ ধারণ করলে পান করুন। এভাবে প্রতিদিন একবার করে পান করতে থাকুন। ফলাফল নিজেই দেক্তে পাবেন।

কাঁচা হলুদ

শুধু দুধের সঙ্গে নয়, বাহ্যিক রূপচর্চাতেও হলুদ আপনার রঙ ফর্সা করতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে কালচে ছোপ দূর করতে এই পদ্ধতি খুব কার্যকর। দুধ ৩ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, এবং কাঁচা হলুদ বাটা ১ চা চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ বা পেস্ট তৈরি করুন। সারা মুখে এই পেস্ট ভালভাবে লাগিয়ে প্যাকটি শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানিতে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। এবার নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুখ মুছে নিন।

মনে রাখবেন, গরম পানিতে মুখ ধোবেন না এবং অন্তত ১২ ঘণ্টা রোদে যাবেন না। দেখবেন নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বকের রঙ হয়ে উঠবে ফর্সা, কোমল, দাগমুক্ত ও সুন্দর। তাহলে আর দেরি কেন? বাড়িতে বসে প্রাকৃতিক উপায়ে নিজে থেকে হয়ে উঠুন ফর্সা, সুন্দর।

নবীনতর পূর্বতন