সূরা আর রহমান | অর্থ, বাংলা উচ্চারণ, শানে নুযূল ও ফজিলত

সূরা আর রহমান (আরবি: الرحمن) কুরআনের ৫৫ তম সূরা; এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৭৮ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৩। সূরা আর রহমান মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরায় জ্বীন ও মানব জাতিকে উদ্দেশ্য করে বারবার প্রশ্ন করা হয়েছে, "অতএব, তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?" এ আয়াতটি ৩১ বার রয়েছে।

শিরোনাম

এই সূরার শিরোনাম, যেটি সূরার প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে যার অর্থ “পরম দয়াময় আল্লাহ”। এ সূরার মধ্যে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলার রহমতের পরিচায়ক গুণাবলী ও তার বাস্তব ফলাফলের উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য সূরার মত এটিও (সূরা তওবা ব্যতীত) "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম" (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি) দিয়ে শুরু করা হয়েছে।

নাযিল হওয়ার সময় ও স্থান

সূরা আর-রাহমান মক্কায় অবতীর্ণ। তবে মদীনায় অবতীর্ণ বলেও অভিমত পাওয়া যায় যার সূত্র আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, ইক্বরিমাহ এবং ক্বাতাদাহ। কিন্তু তাদেরই সূত্রে কথিত আছে যে এ সূরা মক্কায় অবতীর্ণ। অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন হাদীসের ভিত্তিতে কুরতুবী সূরা আর রাহমানকে মক্কায় অবতীর্ণ হওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। জিনদের উপস্থিতিতে রাসুল (স.) কর্তৃক এ সূরা আবৃত্তির ঘটনা মক্কায়ই ঘটেছিল। পূর্ববর্তী সূরা ক্বামারে আল্লাহর অবাধ্যতার শাস্তিতে হিসাবে পৃথিবীতে গযব নাজিলের ইাতহাস বর্ণনা করে “ফা কাইফা কা-না য়াযাবি ওয়া নুযুর” বাক্যের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। অতঃপর ঈমান ও আনুগত্যকে উৎসহিত করার লক্ষ্যে বলা হয়েছে “ওয়া লাক্বাদ ইয়াসসারনার ক্কুর’আন”। এর বিপরীতে সূরা আর-রাহমানে আল্লাহপাকের ইহলোকিক ও পারলোকিক অবদানসমূহের কিছু কিছু উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা হিযর-এরও আগে এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছিল। নবুয়তের ১০ম বৎসরে জ্বিনদের উপস্তিতিতে সূরা আর-রাহমান রাসুল (স.) কর্তৃক আবৃত্তির কথা সূরা আহ্‌ক্বাফে উল্লিখিত রয়েছে (আয়াত ২৯-৩২)। সুতরাং সূরা আহ্‌ক্বাফেরও আগে এটি নাযিল হয়েছিল। আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ ক্বাবায় মাক্বামে ইবরাহিমে দাঁড়িয়ে এ সূরা আবৃত্তি করতে থাকলে কাফিররা তাকে মুখে আঘাত করতে থাকে। তিনি আহত হতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে আবৃত্তি বন্ধ করতে বাধ্য হন।

নাযিল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিত

মুহাম্মাদ (সাঃ)কর্তৃক নবুয়াত লাভের পর মক্কার কাফেররা ইসলাম সম্পর্কে কৌতূহলী হয়। তারা আল্লাহ নামটির সঙ্গে পরিচিত ছিল। কিন্তু আল্লাহ’র অন্যান্য নাম যেমন ‘রাহমান’ সম্পর্কে অবহিত ছিল না। তারা যে সকল মূর্তির পূজা করতো সেগুলোর একাধিক নাম ছিল না। আল্লাহ’র গুণবাচক নাম ‘রাহমান’ শুনে তারা বলাবলি করতো ওয়া মা রাহমান, অর্থাৎ “রাহমান আবার কী?” এ সূরা নাজিলের মাধ্যমে আল্লাহ’র ‘রাহমান’ নামের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

আরবি ও বাংলা অর্থ

الرَّحِيمِ الرَّحْمَنُ

করুনাময় আল্লাহ। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:১]

عَلَّمَ الْقُرْآنَ

শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন, [সুরা আর-রহমান - ৫৫:২]

خَلَقَ الْإِنسَانَ

সৃষ্টি করেছেন মানুষ, [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৩]

عَلَّمَهُ الْبَيَانَ

তাকে শিখিয়েছেন বর্ণনা। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৪]

الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ

সূর্য ও চন্দ্র হিসাবমত চলে। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৫]

وَالنَّجْمُ وَالشَّجَرُ يَسْجُدَانِ

এবং তৃণলতা ও বৃক্ষাদি সেজদারত আছে। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৬]

وَالسَّمَاء رَفَعَهَا وَوَضَعَ الْمِيزَانَ

তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন তুলাদন্ড। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৭]

أَلَّا تَطْغَوْا فِي الْمِيزَانِ

যাতে তোমরা সীমালংঘন না কর তুলাদন্ডে। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৮]

وَأَقِيمُوا الْوَزْنَ بِالْقِسْطِ وَلَا تُخْسِرُوا الْمِيزَانَ

তোমরা ন্যায্য ওজন কায়েম কর এবং ওজনে কম দিয়ো না। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৯]

وَالْأَرْضَ وَضَعَهَا لِلْأَنَامِ

তিনি পৃথিবীকে স্থাপন করেছেন সৃষ্টজীবের জন্যে। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:১০]

فِيهَا فَاكِهَةٌ وَالنَّخْلُ ذَاتُ الْأَكْمَامِ

এতে আছে ফলমূল এবং বহিরাবরণবিশিষ্ট খর্জুর বৃক্ষ। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:১১]

وَالْحَبُّ ذُو الْعَصْفِ وَالرَّيْحَانُ

আর আছে খোসাবিশিষ্ট শস্য ও সুগন্ধি ফুল। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:১২]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:১৩]

خَلَقَ الْإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ كَالْفَخَّارِ

তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:১৪]

وَخَلَقَ الْجَانَّ مِن مَّارِجٍ مِّن نَّارٍ

এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:১৫]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:১৬]

رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ وَرَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ

তিনি দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের মালিক। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:১৭]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:১৮]

مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيَانِ

তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:১৯]

بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لَّا يَبْغِيَانِ

উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক অন্তরাল, যা তারা অতিক্রম করে না। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:২০]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:২১]

يَخْرُجُ مِنْهُمَا اللُّؤْلُؤُ وَالْمَرْجَانُ

উভয় দরিয়া থেকে উৎপন্ন হয় মোতি ও প্রবাল। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:২২]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:২৩]

وَلَهُ الْجَوَارِ الْمُنشَآتُ فِي الْبَحْرِ كَالْأَعْلَامِ

দরিয়ায় বিচরণশীল পর্বতদৃশ্য জাহাজসমূহ তাঁরই (নিয়ন্ত্রন াধীন) [সুরা আর-রহমান - ৫৫:২৪]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:২৫]

كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ

ভূপৃষ্টের সবকিছুই ধ্বংসশীল। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:২৬]

وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

একমাত্র আপনার মহিমায় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:২৭]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:২৮]

يَسْأَلُهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সবাই তাঁর কাছে প্রার্থী। তিনি সর্বদাই কোন না কোন কাজে রত আছেন। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:২৯]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৩০]

سَنَفْرُغُ لَكُمْ أَيُّهَا الثَّقَلَانِ

হে জিন ও মানব! আমি শীঘ্রই তোমাদের জন্যে কর্মমুক্ত হয়ে যাব। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৩১]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৩২]

يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَن تَنفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانفُذُوا لَا تَنفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ

হে জিন ও মানবকূল, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায়, তবে অতিক্রম কর। কিন্তু ছাড়পত্র ব্যতীত তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৩৩]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৩৪]

يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِّن نَّارٍ وَنُحَاسٌ فَلَا تَنتَصِرَانِ

ছাড়া হবে তোমাদের প্রতি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ও ধুম্রকুঞ্জ তখন তোমরা সেসব প্রতিহত করতে পারবে না। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৩৫]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৩৬]

فَإِذَا انشَقَّتِ السَّمَاء فَكَانَتْ وَرْدَةً كَالدِّهَانِ

যেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে তখন সেটি রক্তবর্ণে রঞ্জিত চামড়ার মত হয়ে যাবে। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৩৭]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৩৮]

فَيَوْمَئِذٍ لَّا يُسْأَلُ عَن ذَنبِهِ إِنسٌ وَلَا جَانٌّ

সেদিন মানুষ না তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, না জিন। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৩৯]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৪০]

يُعْرَفُ الْمُجْرِمُونَ بِسِيمَاهُمْ فَيُؤْخَذُ بِالنَّوَاصِي وَالْأَقْدَامِ

অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাবে তাদের চেহারা থেকে; অতঃপর তাদের কপালের চুল ও পা ধরে টেনে নেয়া হবে। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৪১]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৪২]

هَذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي يُكَذِّبُ بِهَا الْمُجْرِمُونَ

এটাই জাহান্নাম, যাকে অপরাধীরা মিথ্যা বলত। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৪৩]

يَطُوفُونَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ حَمِيمٍ آنٍ

তারা জাহান্নামের অগ্নি ও ফুটন্ত পানির মাঝখানে প্রদক্ষিণ করবে। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৪৪]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৪৫]

وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ

যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে পেশ হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্যে রয়েছে দু'টি উদ্যান। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৪৬]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৪৭]

ذَوَاتَا أَفْنَانٍ

উভয় উদ্যানই ঘন শাখা-পল্লবব িশিষ্ট। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৪৮]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৪৯]

فِيهِمَا عَيْنَانِ تَجْرِيَانِ

উভয় উদ্যানে আছে বহমান দুই প্রস্রবন। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৫০]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৫১]

فِيهِمَا مِن كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجَانِ

উভয়ের মধ্যে প্রত্যেক ফল বিভিন্ন রকমের হবে। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৫২]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৫৩]

مُتَّكِئِينَ عَلَى فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ

তারা তথায় রেশমের আস্তরবিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। উভয় উদ্যানের ফল তাদের নিকট ঝুলবে। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৫৪]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৫৫]

فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ

তথায় থাকবে আনতনয়ন রমনীগন, কোন জিন ও মানব পূর্বে যাদের ব্যবহার করেনি। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৫৬]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৫৭]

كَأَنَّهُنَّ الْيَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ

প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ রমণীগণ। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৫৮]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৫৯]

هَلْ جَزَاء الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ

সৎকাজের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ব্যতীত কি হতে পারে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৬০]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৬১]

وَمِن دُونِهِمَا جَنَّتَانِ

এই দু'টি ছাড়া আরও দু'টি উদ্যান রয়েছে। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৬২]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৬৩]

مُدْهَامَّتَانِ

কালোমত ঘন সবুজ। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৬৪]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৬৫]

فِيهِمَا عَيْنَانِ نَضَّاخَتَانِ

তথায় আছে উদ্বেলিত দুই প্রস্রবণ। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৬৬]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৬৭]

فِيهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانٌ

তথায় আছে ফল-মূল, খর্জুর ও আনার। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৬৮]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৬৯]

فِيهِنَّ خَيْرَاتٌ حِسَانٌ

সেখানে থাকবে সচ্চরিত্রা সুন্দরী রমণীগণ। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৭০]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৭১]

حُورٌ مَّقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ

তাঁবুতে অবস্থানকারিণী হুরগণ। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৭২]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৭৩]

لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ

কোন জিন ও মানব পূর্বে তাদেরকে স্পর্শ করেনি। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৭৪]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৭৫]

مُتَّكِئِينَ عَلَى رَفْرَفٍ خُضْرٍ وَعَبْقَرِيٍّ حِسَانٍ

তারা সবুজ মসনদে এবং উৎকৃষ্ট মূল্যবান বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৭৬]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৭৭]

تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِي الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

কত পূণ্যময় আপনার পালনকর্তার নাম, যিনি মহিমাময় ও মহানুভব। [সুরা আর-রহমান - ৫৫:৭৮]

ফজিলত

নবী করীম ( সাঃ ) এরশাদ করেন , যারা শুধু আল্লাহকে খুশী করার জন্য এ সূরাটি প্রত্যহ আছরের নামায বাদ পাঠ করবে , তাদের চেহারা নূরানী হবে , স্ত্রী পুত্র তার তাবেদার হবে , তার রিজিক বৃদ্ধি পাবে এবং সে ব্যক্তি বেহেশতের হকদার হয়ে যাবে।

নবীনতর পূর্বতন