Ads- 1

 

benefits of dates


খেজুরকে এখন পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলছেন সুপারফুড। কারণ খেজুর রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন, আঁশ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্ক। খেজুরের মধ্যে এতো পরিমানের আয়রন থাকে যে, যা একজন মানুষের আয়রনের চাহিদার ১১ ভাগই পূরণ করতে সক্ষম। 

একটি পাকা খেজুরের প্রায় ৮০% এই চিনি জাতীয় উপাদান। কিন্তু এই চিনি শরীরের জন্য অপকারী নয়। বরং অনেক উপকারী। খেজুরের বাদ-বাকি অংশে রয়েছে বোরন, কোবাল্ট, ফ্লুরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম এবং জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আজকের এই আলোচনায় আমরা আপনাদের সাথে খেজুরের সমস্ত উপকারী দিক তুলে ধরবো। 

খেজুরের উপকারিতা 

খেজুর শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে 

খেজুর শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করতে প্রচুর সাহায্য করে। তার কারণ হলো খেজুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন, যা আমাদের শরীরের শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তাছাড়া খেজুর হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন গবেষণার রিপোর্টে এটি উঠে এসেছে যে, খেজুরের পরাগরেণু বন্ধ্যাত্ব দূর করতে পারে। খেজুর শুক্রাণু বৃদ্ধি করে। তাছাড়া খেজুর ও খেজুরের ফুলের পরাগ রেনু ডিএনএ'র গুণগত মান উন্নত করে এবং অন্ডকোষের শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। 

খেজুর দেহের দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে 

যখনি আপনার শরীর ক্লান্ত লাগবে কোন কাজ করতে মন চাইবে না তখুনি আপনি কিছু খেজুর খেয়ে নিন। খেজুর আপনার দেহের দুর্বলতা খুবই তারাতাড়ি কাটিয়ে আপনাকে আবার নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি যোগাবে।

খেজুর হজম শক্তি মুখের রুচি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে 

মুখের রুচি বৃদ্ধি করতে খেজুরের কোনো তুলনায় নাই। যে সকল শিশুরা খেতে চায় না। খাবার নিয়ে খুবই ঝামেলা করে, তাদেরকে নিয়ম করে খেজুর খাওয়ান। নিয়মিত তাদের খেজুর খাওয়াতে পারলে দেখবেন তাদের মুখে অনেক রুচি বৃদ্ধি পাবে। আর খেজুরের মধ্যে রয়েছে স্যলুবল এবং ইনস্যলুবল নামক ফাইবার যা বিভিন্ন ধরনের অ্যামিনো এসিড, যেগুলো আমাদের খাবারকে সহজে হজম হতে সাহায্য করে। 


খেজুর ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে 

খেজুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক আঁশ। তাই নিয়মিত খেজুর খেলে আপনার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। বিশেষ করে খেজুর লাংস ও ক্যাভিটি ক্যাভিটি ক্যান্সার থেকে শরীরকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। 

খেজুর কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে 

একটি গবেষণার রিপোর্টে এটি উঠে এসেছে যে, যাঁরা নিয়মিত খেজুর খায় তাদের খুব সহজে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না। আপনি একটু শক্ত রকমের খেজুরকে পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেয়ে নিন, তাহলে আপনার শরীরে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে।

খেজুর রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে 

খেজুর লৌহ সমৃদ্ধ ফল হিসেবে পরিচিত। তাই নিয়মিত খেজুর খেলে আপনার রক্তশূন্যতা দূর হবে। তাছাড়া নিয়মিত খেজুর খাওয়ার ফলে দেহের আয়রনের অভাব পূরণ হবে এবং রক্তস্বল্পতার হাত থেকে দেহকে রক্ষা করবে। 

খেজুর স্ট্রোকের সম্ভবনা অনেক কমিয়ে দেয় 

একটি খেজুরের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। যা একজন মানুষের স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। তাই নিয়মিত অল্প হলেও খেজুর খান। 

খেজুর উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে 

খেজুরের মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম এবং খুব অল্প পরিমাণে সোডিয়াম। তাই নিয়মিত খেজুর খেলে দেহের খারাপ কলেস্টেরল কমে যায় এবং ভালো কলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নিয়মিত খেজুর খান। 

খেজুর ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে 

যাদের ক্ষুধার জ্বালা বেশি তারা অনেক চেষ্টা করেও ওজন হ্রাস করতে পারেন না। তার কারণ হলো তাদের বেশি ক্ষুধা লাগে, আর ক্ষুধা লাগলেই তারা প্রচুর পরিমাণে খাওয়া দাওয়া করে। যার ফলে তাদের ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও তারা ওজন হ্রাস করতে পারেন না। তাই খেজুর হতে পারে তাদের জন্য আদর্শ উপায়। কারণ অল্প কয়েকটি খেজুর খেলেই আর ক্ষুধার জ্বালা থাকবেনা। যার ফলে তাদের অতিরিক্ত খাবার খাওয়া ইচ্ছাও হবে না। এভাবে তাদের ওজন হ্রাস পাবে।


খেজুর স্নায়ুতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায় 

খেজুরের মধ্যে নানা ধরনের ভিটামিন থাকায় এটি মস্তিষ্কের চিন্তাভাবনার গতিকে অনেক বাড়িয়ে দেয়। তার সাথে সাথে স্নায়ুতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণার রিপোর্টে এটি উঠে এসেছে যে, যেসমস্ত ছাত্র ছাত্রীরা নিয়মিত খেজুর খায় তাদের অন্যান্য ছাত্র ছাত্রীদের তুলনায় মস্তিষ্কের কার্যকরিতা অনেক বেশি। 

খেজুর হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে 

খেজুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম যা বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। বিভিন্ন গবেষণার রিপোর্টে এটি উঠে এসেছে যে, খেজুর শরীরের খারাপ কলেস্টেরলকে কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলকে বাড়িয়ে দেয়। যার জন্য হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা একে বাড়ে কমে যায়। তাই নিয়মিত খেজুর খান। এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে নিজেকে একধাপ এগিয়ে রাখুন। 

খেজুর ব্লাড প্রেশার কমাতে সাহায্য করে 

খেজুরের মধ্যে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন-বি থাকার ফলে খেজুর আমাদের নার্ভকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। আর একজন মানুষের নার্ভ শান্ত তাকলে তার ব্লাড প্রেশারও কম থাকে। তাই ব্লাড প্রেশারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে আপনাকে নিয়মিত খেজুর খেতে হবে। 

খেজুর হাড়কে শক্ত করতে সাহায্য করে 

খেজুরের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-কে রয়েছে। আর আমরা সকলেই জানি যে, ভিটামিন-কে হাড়কে মজবুত করতে সাহায্য করে। 

খেজুর খুসখুসে কাশি দূর করতে সাহায্য করে 

যাদের খুসখুসে কাশি নিয়ে খুব সমস্যা হয় তারা ২০ থেকে ২৫ গ্রামের মতো খেজুর ২ কাপ গরম পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সকালে ঘুম থেকে উঠেই সেই ভিজিয়ে রাখা পানি আর খেজুর চটকে নিয়ে একেবারে শরবতের মতো করে ফেলুন। তারপর খেয়ে ফেলুন। এভাবে ১৫ দিনের মতো খান, তাহলে আপনার খুসখুসে কাশি দূর হয়ে যাবে।


খেজুর ত্বককে টানটান রাখে

অনেক সময় আমাদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ত্বকের চামড়া কুঁচকে যায়। আর ত্বকের চামড়ার কুঁচকানো দূর করার জন্য আপনাকে প্রতিদিন খেজুর খেতে হবে। কারণ খেজুরর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-বি। যা ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। তাই প্রতিদিন খালি পেটে ৪ থেকে ৫ টি খেজুর খেয়ে নিন। 

খেজুরের পুষ্টিগুণ 

একটি সাধারণ সাইজের খেজুরে যে পরিমাণ পুষ্টি থাকেঃ
  • ক্যালরিঃ ২০
  • টোটাল ফ্যাটঃ ০.০৩ গ্রাম
  • টোটাল কার্বোহাইড্রেটঃ ৫.৩৩ গ্রাম
  • ডায়াটেরি ফাইবারঃ ০.৬ গ্রাম
  • সুগারঃ ৪.৫ গ্রাম
  • প্রোটিনঃ ০.১৭ গ্রাম
  • ভিটামিন-বি৬ঃ ০.০১২ মিলিগ্রাম 
  • আয়রনঃ ০.০৭ মিলিগ্রাম 
  • ম্যাগনেসিয়ামঃ ৩ মিলিগ্রাম 
  • পটাশিয়ামঃ ৪৭ মিলিগ্রাম 

খেজুরের অপকারিতা 

খেজুরের এতো সব উপকারিতার ভিড়ে কিছু অপকারিতাও রয়েছে। খেজুর শরীরের রক্তের সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই পরিমাণ মতো খেজুর খাবেন। আর যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের খেজুর খেতে হবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। অতিরিক্ত খেজুর খাওয়া পেটে ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যার কারণ হতে পারে। আবার অনেকের ডায়রিয়া হতে পারে। আবার কিছু মানুষের অ্যালার্জিও হতে পারে। 
নবীনতর পূর্বতন